দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ তরুণদের ভেরিফিকেশনের নামে বাদ দেওয়া চরম বৈষম্যমূলক, অন্যায্য ও অন্যায় সিদ্ধান্ত বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, সহস্রাধিক শহীদের রক্তের বিনিময়ে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত বিএনপি সরকারের এই সিদ্ধান্ত বৈষম্যবিরোধী জুলাই বিপ্লবের সঙ্গে সুস্পষ্ট প্রতারণা।
সাদিক কায়েম লিখেছেন, ‘প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ তরুণদের ভেরিফিকেশনের নামে বাদ দেওয়া চরম বৈষম্যমূলক, অন্যায্য ও অন্যায় সিদ্ধান্ত। সহস্রাধিক শহীদের রক্তের বিনিময়ে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত বিএনপি সরকারের এই সিদ্ধান্ত বৈষম্যবিরোধী জুলাই বিপ্লবের সাথে সুস্পষ্ট প্রতারণা।’
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানের ২৯ নম্বর ধারা অনুযায়ী সরকারি চাকরিতে সুযোগের সমতা প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার। কিন্তু কোনো সুস্পষ্ট কারণ না দেখিয়ে শত শত তরুণের স্বপ্ন ধূলিসাৎ করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
সাদিক কায়েমের ভাষ্য, বাদ পড়া অধিকাংশের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা নেই, কোনো অপরাধে অভিযুক্ত হওয়ার রেকর্ড নেই এবং কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগও নেই।
তিনি লিখেছেন, ‘সরকারি চাকরিতে দলীয়করণ ও ভেরিফিকেশনের নামে নিয়োগ বাতিল করার এই প্যাটার্ন বর্তমান সরকার ধার করেছে ফ্যাসিবাদী আমল থেকে। এটা সেই ফ্যাসিস্ট কাঠামোরই পুনরাবৃত্তি, যেখানে মেধা ও যোগ্যতার চেয়ে পরিচয়, আনুগত্য ও রাজনৈতিক বিবেচনাকে বড় করে দেখা হয়।’
ডাকসু ভিপি বলেন, একজন তরুণকে তার যোগ্যতার ভিত্তিতে নয়, ভেরিফিকেশনের মতো অস্পষ্ট প্রক্রিয়ায় চাকরি থেকে বাদ দেওয়া হলে ভবিষ্যতে একই প্রক্রিয়া দিয়ে একটি প্রজন্মকে চাপে রাখার চেষ্টা হতে পারে।
তিনি আরও লিখেছেন, বাংলাদেশের অধিকাংশ শিক্ষিত তরুণ নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে আসে। উচ্চশিক্ষা শেষ করে একটি চাকরি পাওয়া তাদের কাছে শুধু ক্যারিয়ার গড়ার বিষয় নয়, পরিবারের পাশে দাঁড়ানো ও ভালোভাবে বাঁচারও একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়।
সাদিক কায়েম সরকারের কাছে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করেন। একই সঙ্গে ভেরিফিকেশনের নামে হয়রানি ও অনিশ্চয়তা বন্ধ করে অন্যায্যভাবে বাদ পড়া প্রত্যেক পরীক্ষার্থীর বিষয়ে পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, কোনো পরীক্ষার্থীর বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট অভিযোগ থাকলে তা সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার্থীকে জানিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আপিলের সুযোগ রাখা উচিত। সরকারি চাকরির প্রতিটি নিয়োগ পক্ষপাতমুক্ত, দলীয় প্রভাবমুক্ত, স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও বৈষম্যহীন হওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর মতে, মেধা ও যোগ্যতাই নিয়োগের একমাত্র মাপকাঠি হওয়া উচিত।
এমএম/